শুরুর কথা

ghure berai desey deseyশিকাগো বিমানবন্দরে পৌঁছলাম স্থানীয় সময় ভরদুপুরে। বিশাল লাইনের পেছনে দাঁড়িয়ে আছি। বুঝতে পারি লাইন শেষ হতে সময় লাগবে। কিন্তু আমাদের জন্য চমক ছিল। এগিয়ে এলেন ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্তা। পুলিশ কর্মকর্তা বললেন, আর ইউ ফ্রম বাংলাদেশ? উত্তর দিলাম, ইয়েস। প্লিজ কাম উইথ মি। আমাদের লাইন থেকে নিয়ে যাওয়া হয় সরাসরি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সামনে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের অতিথি বলে কথা। কোনো প্রশ্ন ছাড়াই সিল মারতে গিয়ে ভুরু কুঁচকালেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা। বললেন ও!!! সরি! ইউ আর এ আন্ডার অব রেজিস্ট্রেশন!

ঘুরে বেড়ানো আমার কাছে নেশার মতো। অনেক দেশ ঘুরেছি। কখনো পেশার কাজে। কখনো এমনিতেই ঘুরতে। নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, আরব আমিরাত, ইতালি, জার্মানি, মাল্টা, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, ব্রিটেন থেকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ অনেক দেশ। ঘুরে দেখেছি অন্য দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি। আবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্ট, দুর্ভোগ আর দেশপ্রেম। একবার নিউজিল্যান্ড সফরকালে এক বন্ধু অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম সকালে। ডাক্তার বললেন, অপারেশন করাতে হবে। ভীত হলাম। কত টাকা লাগবে কে জানে। আবার সেই রাতে ফিরব অস্ট্রেলিয়া। একরাশ চিন্তা নিয়ে হাসপাতালে অপেক্ষা করছি। অবশেষে সব কিছুর অবসান হলো। বাংলাদেশের কোনো রোগী এর আগে তাদের হাসপাতালে যায়নি। তাই এ ধরনের রোগীর কাছ থেকে কীভাবে অর্থ নেবেন তা তাদের জানা নেই। এ কারণে আমাদের কোনো বিল দিতে হবে না। আরেকবার সুইজারল্যান্ডে ঘুরছি। কিছু পাকিস্তানি প্রস্তাব দিলেন থেকে যাও। রাজনৈতিক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেব। তবে বাংলাদেশি দেখানো যাবে না। দেখাব কাশ্মীরের অধিবাসী। কোনো সমস্যা হবে না।

আরেকবার স্ত্রী, পুত্র, কন্যাকে নিয়ে ঈদের দিন বাংলাদেশ বিমানে উঠলাম নেপাল যেতে। রানওয়ে গিয়ে বিমান থেমে গেল। না, বিমান যাবে না। বিমানের পরবর্তী নেপালগামী ফ্লাইট কখন ছাড়বে তাও বলতে পারলেন না। ঈদটা মাটি হলো বিমানবন্দরে বসেই। বিদেশ ঘুরতে গিয়ে এভাবে নানা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি অনেকবার। বিদেশ ঘুরে বেড়ানোর নানামুখী অভিজ্ঞতার খণ্ডচিত্র নিয়েই এই গ্রন্থ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *