নেতারা ভুলে গেছেন কারাগারকে

naem nizam:: নঈম নিজাম
ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও নানামুখী কেলেঙ্কারি নিয়ে অনেক গল্প চালু ছিল। বনের রাজার গল্প আমরা জানি। লেপ, তোশক, বালিশের ভিতরে শুধু টাকা আর টাকা। সেই সময় অনেক রাজনীতিবিদকে দেখতে যেতাম কারাগারে। অনেকের পরিবার-পরিজনের খবর নিয়েছি। আবার আশ্রয় দিয়েছি অনেকের পরিবারকে। একবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলকে দেখতে গিয়েছিলাম ল্যাবএইড হাসপাতালে। আমরা তিনজন ছিলাম। সঙ্গে ডা. রাকিবুল হাসান লিটু। ফেরার পথে আকুতি নিয়ে জলিল ভাই বললেন, তোমাদের সঙ্গে আমাকে নিয়ে যাও না। আর ভালো লাগে না। জলিল ভাইয়ের শরীরটাও ভেঙে পড়েছিল। মন খারাপ করে বের হলাম ল্যাবএইড থেকে। আরেকবার ঢাকা কোর্টে গেলাম আরেক নেতার সঙ্গে দেখা করতে। মুড়ির টিনের মতো গাড়িগুলোতে করে আদালতে আনা হতো নেতাদের। রাখা হতো আদালতের উত্তর দিকের একটি সংরক্ষিত এলাকায়। এখান থেকে বের হয়ে নেতারা হাজিরা দিতেন। আবার এসে গাড়িতে বসতেন। এমন একটি গাড়িতে বসা ছিলেন সালমান এফ রহমান, রেদোয়ান আহমেদ, আলী আসগর লবি, এম এইচ সেলিমসহ (সিলভার সেলিম) কয়েকজন। তারা দুপুরের মধ্যাহ্নভোজে ছিলেন গাড়ির ভিতরে। খাবারগুলো বাড়ি থেকে আনানো। আমার সঙ্গে কামরুল হক শামীম। গাড়িতে বসে কথা হয়। সিলভার সেলিম আমাকে বললেন, ভাই আপনাকে জানাচ্ছি মুক্ত হলে আর কোনো দিন রাজনীতি করব না। রাজনীতি করার শখ মিটে গেছে। ব্যবসা করে কাটাব বাকি জীবন। সেলিম তার কথা রেখেছেন। তিনি মুক্ত হয়ে ব্যবসায় ফিরে গেছেন। পদত্যাগ করেছেন বিএনপি থেকে। আর রাজনীতিমুখী হননি। তার সঙ্গে কিছু দিন আগেও কথা হচ্ছিল। জানতে চাই অবসরের অঙ্গীকারে এখনো ঠিক আছেন কিনা? জবাবে বললেন, আগের অবস্থানে আছি। নো পলিটিঙ্। সেলিমের মতো আরও অনেক নেতা তখন অনেক কথা বলেছিলেন। কিন্তু কেউ কথা রাখেননি। সবাই আগের চেয়েও বেপরোয়া। কারও মনে নেই অতীতকে।

ভুলে গেছেন কাশিমপুর, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারকে। মিলেমিশে ছিলেন আওয়ামী লীগ, বিএনপির নেতারা। নামাজ আদায় করতেন একসঙ্গে। খাবার খেতেন ভাগ করে। একজনের বাড়ির রান্না আরেকজন শেয়ার করতেন। আড্ডা দিতেন, টিভি দেখতেন। গোপনে নেওয়া সিডি প্লেয়ারে হিন্দি ছবিও দেখতেন। এমন মিল-মহব্বত বাংলাদেশের মানুষ কম দেখেছে। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নামাজের ইমামতি করতেন সিলেটের মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। ঢাকায় বিশাল রান্নার আয়োজন তদারকি করতেন চট্টগ্রামের এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এর মধ্যে প্রতি সন্ধ্যায় হঠাৎ দলবল নিয়ে সিটি নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিতেন আবদুল আওয়াল মিন্টু। তার সঙ্গে বিএনপি নেতারা শুধু নন, আওয়ামী লীগের অনেকেও বের হতেন। মজা করতেন। বিএনপির আরেক নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালু ছিলেন ধর্মকর্ম নিয়ে। তিনি কারাগারের মসজিদগুলোর সৌন্দর্য বাড়ানো নিয়ে বেশি মনোযোগী ছিলেন। আওয়ামী লীগের সিনিয়র একজন নেতা সেদিনও বলেছেন, ফালু নিয়মিত খোঁজ নিতেন। বলতেন, ভাই জেলে আছেন। ভাবী বাইরে আছে। কোনো আর্থিক সংকট থাকলে বলেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের এই সখ্যে আটককৃত ব্যবসায়ীরাও যোগ দিতেন। সবাই মিলে আড্ডা জমাতেন। আর বলতেন, রাষ্ট্রের অবস্থা ভালো হলে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে কোনো বিরোধ আর হবে না। জেলখানার আন্তরিকতার কিছুটা বিবরণ পাওয়া যায় ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ‘জেল থেকে দেখা বাংলাদেশ’ গ্রন্থে। এই বইয়ে নাটোরের রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে লেখা হয়েছে আসাদুল হাবিব দুলু। কারাগার নিয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও লিখেছেন। ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর তার বইতে লিখেছেন, ‘দেখলাম ফালু সম্পর্কে আগে শোনা কথাগুলো অনেকাংশে ভুল। তিনি সজ্জন, মৃদুভাষী, নিরুদ্বেগ এবং ফুর্তিবাজ মানুষ। দৃষ্টি বিনিময় হলে মুখে লেগে থাকা মৃদু হাসি চোখে পড়ে। ফালু বললেন, চিন্তার কারণ নেই। বছর দুয়েক জেলে থাকতে হবে। ততদিনে সেনাবাহিনীর এসব নেতা বুঝে যাবেন, ক্ষমতার ঘোড়ায় চড়ে বেশি দিন থাকা তাদের হবে না। পাততাড়ি গুটাতে তখন তারা আমাদের সাহায্যপ্রার্থী হবেন। অদ্ভুত ফ্যান্টাসি, মন্সীর জবাব। আমান বললেন, আজগুবি হাস্যকর। ততদিন আমাদের আটকে রাখবে কীভাবে? আমাদের সঙ্গে তারা যাচ্ছেতাই ব্যবহার করছেন কীভাবে? ব্যথিত কণ্ঠে নাসির সাহেবের জবাব। শুনলাম কথায় জড়ালাম না। সালমানও চুপচাপ। লোটাস কামাল অনুচ্চস্বরে বললেন, শুনতে পাচ্ছেন ওরা (বিএনপির লোকেরা) কি বলছেন? ওদের কুকর্মের কারণে আমরা এই এঁদো গলিতে, এটা বোঝার শক্তিও ওদের নেই।

আমাদের রাজনীতিবিদরা বিপদে পড়লে একরকম থাকেন। বিপদ কেটে গেলে অন্যরকম। ওয়ান-ইলেভেন থেকে কেউ শিক্ষা নেননি। বরং অনেকে এখন আরও বেপরোয়া। অথচ অন্য দেশের রাজনীতিবিদরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেন। ইন্দিরা গান্ধীর কথা বলা যেতে পারে। ১৯৭৮ সাল ছিল ইন্দিরা গান্ধীর জন্য বড় দুঃসময়ের বছর। দুঃস্বপ্নেরও বলা যায়। কারা অন্তরীণ হয়েছিলেন। হামলা, মামলার শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু থেমে থাকেননি। তিহার জেলে বসেই তিনি নতুন করে ভাবনা শুরু করেন। কারাগারে তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে, ক্ষমতাচ্যুতির পর তার গাড়িতে ঢিল মারা, তার ফাঁসি দাবি করে স্লোগান দেওয়া, শাহ কমিশনের হয়রানি ইত্যাদি। ইন্দিরা ধৈর্যহারা হননি। অহমিকা ত্যাগ করে চেষ্টা করেন মানুষের মন বোঝার। নিজের ভুলের খাতা খুলে বসেন। জরুরি অবস্থার সময় সঞ্জয় গান্ধীর অনেক সিদ্ধান্ত কংগ্রেস ও ইন্দিরার সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। সেই সময় ইন্দিরা শুধু কারান্তরীণ হননি, দলের ভিতরেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিলেন। তার নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জে পড়ে। টুকরা টুকরা হয়ে যায় কংগ্রেস। এক পর্যায়ে ইন্দিরা দল থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন। কিন্তু তার সমর্থকরা তাকে ছেড়ে যাননি। ইন্দিরা কংগ্রেস নামে তার অনুসারীরা আরেকটি দল গঠন করেন। এত কিছুর পরও নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ান ইন্দিরা। পরের নির্বাচন শুরু করেন ভারতবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে। রাজনীতিতে এই লৌহ মানবীর চিন্তা-চেতনায়ও পরিবর্তন আসে। সহনশীল হন প্রতিপক্ষের সঙ্গে আচার-আচরণে। ইন্দিরাকে অনেক কষ্ট দিয়েছেন জয় প্রকাশ নারায়ণ। সেই নেতা মারা যান ‘৭৯ সালে। ইন্দিরা গান্ধী জয় প্রকাশের মৃত্যুর পর ছুটে যান পাটনায়। অংশ নেন জয় প্রকাশের শব সৎকার অনুষ্ঠানে।

রাজনীতিতে বিপর্যয় আসতেই পারে। কিন্তু বিপর্যয় কাটাতে দরকার মানসিকতার পরিবর্তন। রাজনৈতিক চিন্তায় সবাই সবার সঙ্গে একমত হবে না। কিন্তু পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। আর আস্থা রাখতে হবে সাধারণ মানুষের ওপর। বিএনপিকে আমি ভুলের সমুদ্রে দেখছি। বিএনপির জন্য শুধু ইন্দিরা নন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ উদাহরণ হতে পারেন। এবার আশরাফের বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার মন্ত্রণালয়ে না যাওয়ার আমি একজন বড় সমালোচক। মন্ত্রী হবেন কেন মন্ত্রণালয়ে যাবেন না? বাদ পড়ার পর সার্বিক ঘটনার মোকাবিলায় তার দৃঢ়তার প্রশংসা করতে হয়। তিনি প্রথমত আস্থা রেখেছেন তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের ওপর। বলেছেন, রাজনীতি না করলেও থাকব হোসেনপুরের মানুষের সঙ্গে। দ্বিতীয়ত, স্পষ্টভাবে বলেছেন, তার বাবার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আত্দার সম্পর্ক ছিল। এই রক্তে বেইমানি নেই, এই বার্তাটি প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া। এরপর অভিমানকে ঠাঁই না দিয়ে তিনি সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীও সৈয়দ আশরাফকে মূল্যায়ন করলেন। দায়িত্ব দিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। এরপর থেকে সৈয়দ আশরাফ সক্রিয় দল ও সরকারে। আমি তার এই দৃঢ়তার প্রশংসাই করি। একজন রাজনীতিবিদ এমনই হবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তিনি ভালোভাবেই চালাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। কারণ তার সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা আছে। তাকে শুধু সিরিয়াস হতে হবে। এবার আওয়ামী লীগ নয়, দেশের সব মিডিয়াও তার পাশে দাঁড়িয়েছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন ভালোবাসা কম রাজনীতিবিদ পেয়েছেন। সৈয়দ আশরাফ ভাগ্যবান মানুষ।

সব কিছুর পর ভালো দিক হলো, অনেক দিন পর একজন শক্তিশালী মন্ত্রী জনপ্রশাসনে। ‘৯৬ সালের পর থেকে জনপ্রশাসন থাকত প্রধানমন্ত্রীর অধীনে। এখন পরিস্থিতি বদল হয়েছে। সরকারের এই মেয়াদে একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এখন পূর্ণ মন্ত্রী। আমার আশাবাদ নতুন মন্ত্রী ঠিকভাবে অফিসে যাবেন। প্রশাসনে গতিশীলতা আনবেন। তার দক্ষতায় বদলে যাবে অনেক কিছু। রাজনৈতিক সরকারগুলোর কাছে আমাদের এমনই আশাবাদ। বিএনপির ‘৯১-৯৬ মেয়াদে এই মন্ত্রণালয়ে পরপর তিনজন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সেই সময় সংস্থাপন মন্ত্রণালয় ছিল চাঙ্গা। সেই তিনজনের একজন নুরুল হুদা, আরেকজন ব্যারিস্টার আমিনুল হক। শুরুতে অল্প কিছু দিন ছিলেন ওসমান গনি খান। ওসমান গনির পর সংস্থাপন মন্ত্রণালয়কে (এখন জনপ্রশাসন) জমিয়ে দেন নুরুল হুদা। তিনি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। পরে তাকে পাঠানো হয় সংস্থাপনে। নুরুল হুদা জীবন শুরু করেছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। ৭৩ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। ৭৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চাঁদপুরের মতলব থেকে নির্বাচন করেন। জয়ীও হন। এরপর যোগ দেন বিএনপিতে। নুরুল হুদা ব্যক্তিগত জীবনে একজন গীতিকার। তার বিখ্যাত অনেকগুলো গানের অন্যতম- আগে যদি জানতাম তবে মন ফিরে না চাইতাম, মামুনিয়া মামুনিয়া…। দায়িত্ব নিয়েই সচিব পর্যায়ে সব মন্ত্রণালয়ে গণবদলি করে আলোচনায় আসেন তিনি। সব সিএসপিকে এভাবে বদলি করাতে পুরো প্রশাসন কেঁপে ওঠে। এখানেই শেষ নয়, এরপর পদোন্নতির জট খুলে দেন তিনি। কিন্তু এই পদোন্নতির জট খোলাই তার জন্য কাল হয়ে ওঠে। পদোন্নতি বঞ্চিতদের একটি গ্রুপ বিদ্রোহ করে। তারা অভিযোগের তীর ছোড়েন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। পার্লামেন্টে এ নিয়ে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। অন্যদিকে বিএনপি থেকে বলা হয়, ৭৩ ব্যাচকে তিনি বেশি পদোন্নতি দিয়েছেন। এই ব্যাচ তোফায়েল অনুসারী। হুদা নিজেও ৭৩ ব্যাচ। জটিল পরিস্থিতিতে হুদাকে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এরপর পদত্যাগ করেন নুরুল হুদা। আজকাল পদত্যাগের নজিরগুলো উঠে যাচ্ছে। বিতর্ককে কলঙ্কের মালা হিসেবে নেন মন্ত্রীরা। তাদের বাদ দেওয়ার রেওয়াজও উঠে যাচ্ছে। তারাও পদ ছাড়েন না। অথচ বিতর্কিতদের নিয়েই যুগে যুগে সরকার সমস্যায় পড়ে। তারপরও এখন তাদের বাদও দেওয়া হয় না। কারণ রাজনীতি থেকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা শব্দগুলো উঠে যাচ্ছে। এখন সবাই ভোগবাদী। ত্যাগ, তিতিক্ষা, জেলে যেতে কেউই রাজি নন।

পাকিস্তান আমলে রাজনীতিবিদরা হুলিয়া মাথায় নিয়ে পালাতেন। অবশ্য ব্রিটিশ আমল থেকেই এই ট্রাডিশন শুরু। প্রয়াত জননেতা আবদুস সামাদ আজাদ পালিয়ে মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্বও পালন করেছিলেন একবার। কাজী জাফর আহমদ ফেরারি জীবন কাটিয়েছিলেন একটি স্কুলের শিক্ষক হিসেবে। স্কুলটি আমার বাড়ির কাছে। প্রতিষ্ঠানটির নাম শাকতলী হাইস্কুল। তখন শাকতলী ছিল কুমিল্লার লাকসাম থানার অধীনে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল ভয়ঙ্কর খারাপ। বর্ষাকালে মানুষের যোগাযোগের বাহন ছিল নৌকা। আর গ্রীষ্মে হাঁটাপথ। এই বিচ্ছিন্ন এলাকাটি ছিল একজন বাম নেতার পলাতক জীবনের জন্য অসাধারণ, অনেকটা সিনেমার কাহিনীর মতো। জিয়াউর রহমানের আমলে কাজী জাফর শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে সেই স্কুলে যান। এলাকাবাসী তখন জানল তাদের সেই শিক্ষকই দেশের শিক্ষামন্ত্রী। এখনকার রাজনীতিবিদরা পালিয়ে থাকেন গুলশান, বনানী, উত্তরাতে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের তুলে নেয়। পরে খোঁজ মেলে অনেক দিন পর। জটিল সব কিছু। অনেকে আবার দেশের বাইরে গিয়ে আশ্রয় নেন। আয়েশী জীবনযাপন করেন। দিনবদল হয়েছে। সময় বদলে গেছে।