ভোলার তোফায়েল ভোলায় যাবেন ফিরে

montobbo protibedonঅনেক দিন থেকে ভোলায় যাওয়ার আমন্ত্রণ। সকালে গিয়ে বিকালে ফিরে আসব। এর মধ্যে একটি তারিখ মিস হলো। তাই নতুন তারিখ জানাতে ১৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকালে আবার ফোন করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বললেন, শুক্রবার ১৮ এপ্রিল সকালে ভোলা চলো। বিকালে ফিরে আসব। সারা দিন কাটাব ভোলার সবুজ ছায়ায়। সকাল ১০টার মধ্যে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে চলে আস। আমরা ১০টায় রওনা হব। সিকদার চাচা মাঝে মাঝে এলাকায় যাওয়ার জন্য আমাকে হেলিকপ্টার দেন। এককথায় রাজি হয়ে গেলাম। শুক্রবার নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে গেলাম বিমানবন্দরে। তোফায়েল ভাই এলেন, সঙ্গে ভাবী আনোয়ারা বেগম বিশাল লাগেজ নিয়ে। তোফায়েল ভাই হাসিমুখ নিয়ে বললেন, তোমার ভাবী কয়েক দিন থাকবে। তাই বড় লাগেজ। সফরসঙ্গী হিসেবে আরও আছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ, তোফায়েল আহমেদের একমাত্র মেয়ে মুন্নীর জামাতা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন, ভাতিজা এমপি আলী আজম মুকুল, আরেক ভাতিজা এবং ভাবী যাকে ছোটবেলা থেকে পুত্র হিসেবে লালন করেন বিপ্লব।

হেলিকপ্টারের পাইলট উইং কমান্ডার শফিক পুরনো পরিচিত। তার সঙ্গে এর আগে ঘুরেছি। চমৎকার মানুষ। আমার পাশে বসলেন বাণিজ্য সচিব। দুজন মিলে হেলিকপ্টার থেকে গ্রাম দেখছি, আই ফোনে ছবি তুলছি। ধান খেত, নদী, খাল-বিলের ওপর দিয়ে হেলিকপ্টার উড়ছে। কাছ থেকে বোঝা যায় নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। বড় বড় চর জেগে নদী বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ড্রেজিং নেই। এই মুহূর্তে জরুরিভাবে দরকার ড্রেজিং। না হলে এক দিন হয়তো কোনো নদীরই অস্তিত্ব থাকবে না। পাশে বসা বাণিজ্য সচিব বললেন, দেখেন আমাদের কৃষি জমিগুলোও শেষ হয়ে যাচ্ছে। সরকারিভাবে আইন করা দরকার, কৃষি জমিতে স্থাপনা নির্মাণে অনুমতি নিতে হবে। এই অনুমতি ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ থেকে দেওয়া যেতে পারে। দরকার রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। তার সঙ্গে একমত পোষণ করলাম। গ্রামে একান্নবর্তী পরিবারগুলো এখন ভেঙে ভেঙে বছর বছর নতুন বাড়ি নির্মাণ করছে। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরাও বানাচ্ছে আলাদা বাড়ি। অথচ একই বাড়িতে নির্মাণ হতে পারে অনেকগুলো দালান। কিন্তু কেউ তা করছে না। সরকারও কৃষি জমি রক্ষায় করছে না নতুন আইন। কথায় কথায় মাত্র ৪০ মিনিটে উড়ে চলে এলাম ভোলা।

ভোলা হেলিপ্যাডে অনেক ভিড়। জেলা প্রশাসক সেলিম রেজা ও পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান, জেলা পরিষদ প্রশাসক আবদুল মমিন টুলু, মেয়র মনিরুজ্জামান মনির আমাদের স্বাগত জানালেন। জেলা প্রশাসককে আগে থেকে জানি। তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী কাপ্টেন (অব.) তাজুল ইসলামের একান্ত সচিব ছিলেন। তাজ ভাইয়ের বাসায় অনেকবার দেখা হয়েছে। হেলিপ্যাড থেকে প্রথমেই গেলাম সার্কিট হাউসে। কারণ নিয়ম অনুযায়ী গার্ড অব অনার নিতে হবে মন্ত্রীকে। সার্কিট হাউস থেকে তোফায়েল আহমেদের শহরের বাড়িতে। এই বাড়িতে ২৩ বছর আগেও এসেছিলাম। পথে তিনি দেখালেন তার স্কুল, যেখানে পড়াশোনা করেছেন। এই বাড়ির জমি সত্তরের দশকে তোফায়েল আহমেদ কিনেছিলেন একমাত্র মেয়ে মুন্নীর নামে। ওয়ান-ইলেভেনের পর বাবার ভালোবাসার খেসারত দিতে হলো মুন্নীকেও। তার বিরুদ্ধে মামলা হয় স্কুলজীবনে সম্পদ কেন তার নামে গেল সেই কারণে। বাণিজ্য সচিব ও আমি দোতলায় গিয়ে বসলাম। নিচে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কিছু সময় কাটালেন তোফায়েল আহমেদ। তবে ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়ে কর্মসূচি শেষ করলেন। তারপর আমাদের নিয়ে চললেন তার বৃদ্ধাশ্রম ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি দেখাতে।

অসাধারণ শৈল্পিক দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ করা মসজিদটি দেখে মন ভরে গেল। চমৎকার নির্মাণশৈলীর মসজিদটি নির্মাণ করেছেন বন্ধু, বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তায়। তোফায়েল আহমেদ বললেন, সবার সহায়তা না পেলে এই মসজিদ নির্মাণ সম্ভব হতো না। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম আবদুল জলিলও এই মসজিদের মুসলি্লদের জন্য দিয়েছেন বিদেশি কার্পেট। এমন অনেক মানুষের সহায়তা রয়েছে। ইস্তাম্বুল সফরকালে সেখানকার মসজিদের আর্কিট্রাকচারাল ডিজাইন দেখে এমন একটি মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন তোফায়েল আহমেদ। সেই স্বপ্নই বাস্তবায়ন করলেন ভোলার অজপাড়াগাঁয়ে। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তিনি মসজিদটি দেখালেন। মসজিদের পাশেই খালি জায়গা দেখিয়ে বললেন, এখানে একটি বাড়ি করব। বাড়ির এক পাশে মসজিদ, আরেক দিকে বৃদ্ধাশ্রম। শেষ বয়সটা এখানেই কাটাব। এই উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক খুশবত সিং কিছু দিন আগে দিলি্লতে মারা গেছেন। মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয় পাকিস্তানের একটি গ্রামে। যেখানে জন্ম নিয়েছিলেন খুশবত সিং। ‘৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ভারতে আসেন। মৃত্যুর আগে তার অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী ছোটবেলায় যে গাছের নিচে তিনি খেলতেন তার নিচে সমাহিত করে লিখে দেওয়া হলো- এই মাটিতে জন্ম, মৃত্যুর পর মিশে গেলাম এই মাটিতে।

মাটির টান বড় টান। এ কারণেই ভোলার সন্তান তোফায়েল কাজ করছেন ভোলাকে ঘিরে। নানামুখী উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে গড়ে তুলছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বৃদ্ধাশ্রম। তোফায়েল আহমেদের মায়ের নামে করা প্রতিষ্ঠানটির নাম ফাতেমা খানম কলেজ। মসজিদ-বৃদ্ধাশ্রম থেকে কাছেই কলেজটি। মায়ের স্মৃতি এখনো তাকে আকুল করে তোলে। জানালেন, গাজীপুরের খতিব মুকুলের বৃদ্ধাশ্রমটি তিনি দেখেছেন। সেখানে বসবাস করছেন অনেক অবস্থাপন্ন পরিবারের বৃদ্ধা বাবা-মা। সন্তানকে কষ্ট করে প্রকৌশলী, চিকিৎসক বা আরও বড় কিছু বানিয়েছেন। সন্তানরা থাকেন দেশে-বিদেশে। বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে। বছরে একবার খবর নেন। আবার কেউ খবরও নেন না। বৃদ্ধাশ্রমই সবার শেষ ঠিকানা।

দুপুরের নামাজ ও খাবারের আয়োজন তোফায়েল আহমেদের গ্রামের বাড়িতে। আয়োজনের শেষ নেই। দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামেই জন্ম নেন তোফায়েল আহমেদ। তেঁতুলিয়া নদীর তীর ঘেঁষেই এই গ্রাম। ফেরার পথে তোফায়েল আহমেদ তার ছোটবেলার বিদ্যালয়টি দেখাতে নিয়ে গেলেন। যেখানে তার প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই বিদ্যালয় আর নেই। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভোলার চারদিক ঘেঁষে অনেক নদী। এত সবুজ গাছগাছালি আর কোনো জেলাতে দেখিনি। এই জেলার পশ্চিমে তেঁতুলিয়া নদী, পূর্ব পাশে মেঘনা, উত্তরে ইলিশা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। পুলিশ কর্মকর্তা রামানন্দ ও ম্যাজিস্ট্রেট রওশন বললেন, চমৎকার এই জেলাটি সন্ধ্যার পর বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। রাতে আপনি বরিশালও যেতে পারবেন না। কারণ ফেরি বন্ধ। ঝুঁকি নিয়ে স্পিডবোট চলে না। চরে আটকা পড়ার ভয় আছে। ফেরি চলে দুটি রুটে। ইলিশা ঘাট থেকে বরিশালে যায়। আরেকটি লক্ষ্মীপুরের মুজপুর ঘাটে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি জুনু রায়হান বললেন, ফেরি দুটি বেশির ভাগ সময় নষ্ট থাকে। তখন দুর্ভোগ হয় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভোলার। তবে পুলিশ কর্মকর্তা রামানন্দ রসিক মানুষ। বললেন- ভাই, সন্ধ্যার পর আমাদের অসুখ-বিসুখ কিছুই হয় না। কারণ হলেই সমস্যা। ভোলার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

ভোলার অবস্থা আরও খারাপ ছিল। কথায় কথায় জেলা পরিষদের প্রশাসক টুলু স্মরণ করিয়ে দিলেন ‘৯১ ও ‘৯৩ সালে আমার ভোলা সফরের কথা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তখন ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা। আমি কাজ করি প্রথমে আজকের কাগজে, পরে ভোরের কাগজ। আমার বিট আওয়ামী লীগ। তাই আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সঙ্গে সাগর লঞ্চে চড়ে ভোলা আসি সফরসঙ্গী হিসেবে সংবাদ সংগ্রহে। সাগর লঞ্চের মালিকের নাম ছিল মুকুল। এখন এই ব্যবসায় আছেন কি-না জানি না। ‘৯১ সালে তোফায়েল আহমেদ দুটি আসনে জয়ী হন। এ কারণে একটি আসন ছেড়ে দেন। দ্বিতীয়বার উপনির্বাচন হয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের মৃত্যুর কারণে। অধ্যক্ষ নজরুলের পুত্র জ্যাকব এখন উপমন্ত্রী। তবে ‘৯৩ সালে বয়স স্বল্পতার কারণে উপনির্বাচনে জ্যাকবের অংশ নেওয়া হয়নি। মনোনয়ন পেয়েছিলেন জাফর উল্লা নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা। সেই সফরগুলোর অনেক স্মৃতি এখনো মনে আছে। ঢাকা থেকে ভোলা যাওয়ার সময় চাঁদনী রাত। মেঘনার স্রোত কেটে কেটে লঞ্চ এগিয়ে চলছে ভোলার পথে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী চেয়ার টেনে বসলেন লঞ্চের ডেকে। ধীরে ধীরে তাকে ঘিরে আমরা কয়েকজন সাংবাদিকও বসলাম তার সামনের ফ্লোরে। গল্প জমে ওঠে। শেখ হাসিনার আড্ডায় সমরেশ মজুমদারের কাল বেলা, কালপুরুষ, উত্তরাধিকার, সুনীলের পূর্ব পশ্চিম থেকে শুরু করে দুনিয়ার সব বিষয়বস্তু। এর মধ্যে তিনি নাম ধরে ডাকলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে। কাদের এই দিকে আস। আমি ভাবতাম কাদের সিদ্দিকীর অনেক বয়স। তাই অবাক বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করলাম, আপা কাদের সিদ্দিকী কি আপনার ছোট? তিনি হাসলেন। বললেন, ওর ভাবে মনে হচ্ছে আমার চেয়ে বড়। কিন্তু বাস্তবে আমার দুই বছরের ছোট।

এই সফরে আরেকজন মানুষ ছিলেন তিনি আবদুল কুদ্দুস মাখন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। বঙ্গবন্ধুর চার খলিফার একজন। আজ তিনি নেই। ভোলায় গিয়ে তার কথাও মনে পড়ল। অধ্যক্ষ নজরুলের মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনের সময় বর্ষাকাল ছিল। যোগাযোগ ব্যবস্থা এত ভালো ছিল না। ‘৯৬ সালে তোফায়েল আহমেদ শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ভোলার উন্নয়নে গতি আসে। ট্রলারে করে এক দ্বীপ থেকে আমরা আরেকটি দ্বীপে যাচ্ছি। তীব্র স্রোতে ট্রলার দুলছে। যাত্রীদের সবাইকে কম-বেশি ভীত মনে হলো। জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু, অসীম কুমার উকিলসহ সাবেক অনেক ছাত্রনেতা ও সাংবাদিকদের সাহস দিচ্ছেন শেখ হাসিনা নিজে। তিনি স্মৃতিচারণ করছিলেন ছোটবেলার টুঙ্গিপাড়ার কথা। মধুমতি নদীতে নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা। বঙ্গবন্ধুকন্যার দুঃসাহসী গল্প শুনে আমরা ভয় তাড়াচ্ছি। ভোলা থেকে ফেরার পথেও আরেক অভিজ্ঞতা। সকালে ঘুম ভেঙে শুনি শেখ হাসিনা কোরআন তেলাওয়াত করছেন। নামাজ শেষ করে তিনি কোরআন তেলাওয়াত করেন নিয়মিত। ঘুম ভাঙাতেই রুম থেকে বের হয়ে এলাম। নদীর স্রোতের শব্দ শুনছি। পুব আকাশে দেখছি সূর্য উদয়। জেলেরা ইলিশ মাছ ধরে নৌকায় তুলছে। সূর্যের আলোয় রুপালি ইলিশ ঝিলিক দিচ্ছে। এ সময় নিজের রুম থেকে বেরিয়ে এলেন শেখ হাসিনা। তার পেছনে পেছনে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও আত্দীয় নজীব আহমেদ। তাকে নির্দেশ দিলেন লঞ্চ থামাতে। সঙ্গে সঙ্গে সারেং লঞ্চ থামাল। বললেন, সদ্য ধরা ইলিশ কিনতে। সকালের নাস্তার সঙ্গে গোটা ইলিশের ফ্রাই। কমপক্ষে একটি করে গোটা ইলিশ খেতে হবে। কেউ বেশি খেলে আপত্তি নেই। জেলেরা বঙ্গবন্ধুকন্যাকে দেখেই চিনল। তারা নৌকাভর্তি মাছ তুলে দিল লঞ্চে। তাদের দাম দেওয়ার সময় কেউ একজন দরাদরি করলেন। শেখ হাসিনা ধমক লাগালেন। বললেন, ওরা আমার কাছে মাছ বিক্রি করেছে। তোমরা দরাদরি করছ কেন? যা চায় তাই দাও। ভোলা সফরে সেসব নস্টালজিয়াতে আবারও আক্রান্ত হই। কথায় কথায় বিপ্লব বললেন, কিছু দিন আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মোজেনা ভোলা সফর করেছেন। মোজেনাও গিয়েছেন তোফায়েল আহমেদের গ্রামের বাড়ি। খেয়েছেন তেলাপিয়া মাছ ফ্রাই। বাণিজ্য সচিব এবং আমার পাতে বার বার মাছ তুলে দিচ্ছেন তোফায়েল আহমেদ। সব শেষে ভোলার টক দই, সঙ্গে গুড়। খাওয়া শেষ করেই বেরিয়ে পড়লাম আমরা হেলিপ্যাডের দিকে। পথে বিপ্লবের খামার। জাল টেনে মাছ তোলা হবে। তার আগে আমরা গেলাম তেঁতুলিয়া নদীর তীরে। এই নদীতে হারিয়ে গেছে তোফায়েল আহমেদের ছোটবেলার স্কুলটি। এলাকার মানুষ ছুটে এলেন। তারা কথা বললেন, তাদের প্রিয় সন্তানের সঙ্গে। তুলে ধরলেন নানা সমস্যার কথা। পথে পথে গাড়ি থামিয়ে এভাবে অনেকেই কথা বললেন। এর মধ্যে কয়েকজন কৃষক তাদের বিদ্যুৎ লাইন নিয়ে সংকটের কথা জানালেন। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে থামলেন তোফায়েল আহমেদ। শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন। ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন জিএম। তোফায়েল আহমেদ নির্দেশ দিলেন সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলোতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে। আসলে কাজ এভাবেই করতে হয়। ক্ষীপ্রগতিতে কাজ করতে দেখেছি প্রয়াত কামরুল ইসলাম সিদ্দিককে। এভাবে কাজ করলে উন্নয়ন খাতে উন্মোচিত হবে নতুন দিগন্ত। বিপ্লবের খামার থেকে টাটকা মাছ নিয়ে আবার হেলিকপ্টারে চড়লাম। বড় লাগেজটি নিয়ে ভাবীও আমাদের সঙ্গে। তোফায়েল ভাই বললেন, তোমার ভাবী এসেছিল কয়েক দিন থাকবে। শেষ পর্যন্ত থাকল না। লাগেজ নিয়ে আবার ঢাকায়।

লেখক : সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন